শুঁটকি মাছ কেন খাবেন, কেন খাবেন না?


বাঙ্গালীর এক অতি পরিচিত খাবার হচ্ছে শুঁটকি মাছ। এটি মানুষের শরীরের প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে। অনেকেই শুঁটকি মাছ খেতে পছন্দ করেন না, আবার অনেকেই পছন্দ করেন না।‌ শুঁটকি মাছ কেন খাওয়া উচিৎ এবং কেন খাওয়া উচিৎ না সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই।


শুঁটকি মাছের পুষ্টি উপাদানসমূহ:


১। প্রোটিন:  মানুষের দেহের জন্য প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পুরন হল প্রোটিনের প্রধান কাজ। শুঁটকি মাছে রয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রোটিন। শুঁটকি মাছের প্রোটিনে যে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তা প্রায় ডিমের অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে তুলনীয়।


২। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট:  শুঁটকি মাছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা মূলত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


৩। সোডিয়াম: এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্নায়ুকে ও নিয়ন্ত্রন করে। এ ছাড়া মাংসপেশির গঠন ঠিক রাখে।


৪। পটাশিয়াম:  পটাশিয়াম দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। আমাদের দেহের স্নায়ুতন্ত্র, মাংসপেশি ও হৃৎপিণ্ডের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য এটি প্রয়োজনীয়।


৫। ফসফরাস:  ফসফরাস শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি আমাদের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে এবং পেশীর অবসন্নভাব কমায়। ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে কিডনিকে ভালো রাখে।


৬। ভিটামিন বি১২:  এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। লোহিত রক্তকণিকা গঠনে এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।


৭। সেলেনিয়াম:  সেলেনিয়াম শরীরে খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এটি দেহে কোষ ধ্বংস প্রতিরোধ করে। প্রোটিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তৈরিতে সহায়তা করে।


৮। নায়াসিন:  নায়াসিন দেহে শক্তি তৈরি করে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।


শরীরের অধিক শক্তি যোগাতে শুঁটকি মাছের তুলনা হয়না। খেলোয়াড়, ব্যায়ামবিদ, নৃত্যশিল্পী, সাঁতারু, বাড়ন্ত শিশু, রক্ত স্বল্পতা ও গর্ভবতী নারীদের জন্য শুঁটকি মাছ খুবই উপকারী। এন্টিবডি এবং এনজাইমের খুব ভাল উৎস হচ্ছে প্রোটিন বা আমিষ। শুঁটকি মাছে আছে প্রচুর প্রোটিন।  


  শুঁটকি মাছ খাওয়ায় সাবধানতা:


১। শুঁটকি মাছে উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টরল থাকায় এটি মোটা মানুষ এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের না খাওয়া উচিৎ।
২। শুঁটকি মাছে প্রচুর প্রোটিন থাকায় ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপের রোগী এবং কিডনি রোগীদের এটি না খাওয়া উচিৎ।
৩। সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ খোলা জায়গায় মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করার সময় এক ধরনের মাছির লার্ভা বা শুককীট শুঁটকি মাছের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ সমস্যা এড়াতে উৎপাদনকারীরা মাছ শুকানোর আগে কাঁচা মাছে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে। এতে উৎপাদিত শুঁটকি মাছ বিষাক্ত হয়ে যায়। এসব শুঁটকি মাছ খাওয়ার ফলে লিভার ক্যান্সার, কিডনি ড্যামেজ, খোসপাঁচড়াসহ নানা চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি নারীদের অকাল গর্ভপাত, মৃত অথবা বিকলাঙ্গ সন্তান জন্ম হতে পারে। এছাড়া ও খোলা পরিবেশে মাছ শুকানোর ফলে এসব শুঁটকি মাছে ময়লা‌ ধুলোবালি লেগে থাকে। তাই ধুলোবালি ও কীটনাশক যুক্ত শুঁটকি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ গ্ৰীনহাউজ পদ্ধতিতে শুকানো কীটনাশক মুক্ত শুঁটকি খাওয়া উচিৎ।


বাংলাদেশের সেরা শুটকি কিনুন।

শুটকিজে, আমরা বাংলাদেশের সেরা উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত শুটকি নামে বাংলায় পরিচিত শুটকি মাছের সেরা নির্বাচন অফার করি। আমাদের শুটকি যত্ন সহকারে শুকানো হয় এর সমৃদ্ধ স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ রক্ষা করার জন্য, নিশ্চিত করে যে প্রতিটি কামড় একটি খাঁটি স্বাদ প্রদান করে। আপনি ঐতিহ্যগত বৈচিত্র্য বা নতুন স্বাদ খুঁজছেন কিনা, আমরা আপনার দরজায় সরাসরি তাজা, উচ্চ মানের শুটকি সরবরাহের গ্যারান্টি দিচ্ছি।

আমরা কারা?

শুটকিজ একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যা বাংলাদেশে সেরা মানের শুঁটকি সরবরাহ করতে নিবেদিত। আমরা শুটকির ঐতিহ্যবাহী স্বাদ আপনার বাড়িতে সহজে এবং সুবিধার সাথে নিয়ে আসতে আগ্রহী। আমাদের লক্ষ্য হল বিশ্বস্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয় পণ্য সরবরাহ করা, প্রতিটি কেনাকাটা তাজা এবং স্বাদযুক্ত তা নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের গুণমান এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির জন্য নিজেদেরকে গর্বিত করি।

আমরা যেসব পণ্য বিক্রয় করি

আমরা ছুরি শুটকি, লোইট্টা শুটকি এবং রূপচাঁদা শুটকির মতো জনপ্রিয় ধরনের সহ বিভিন্ন ধরণের শুকনো মাছের পণ্য অফার করি। প্রিমিয়াম স্বাদ এবং টেক্সচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ মান পূরণের জন্য প্রতিটি পণ্য সাবধানে নির্বাচন করা হয়। আমাদের ক্যাটালগ আপনার রান্নার প্রয়োজন অনুসারে সম্পূর্ণ এবং ফিলেটেড উভয় বিকল্প অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের পরিসীমা অন্বেষণ করুন এবং বাংলাদেশের সেরা শুটকির খাঁটি স্বাদ উপভোগ করুন!